অর্ঘ্য ঘোষ
( এই কলমে এমনই কিছু হারিয়ে যাওয়া মানুষের কথা ধারাবাহিক ভাবে তুলে ধরা হবে যারা নিতান্তই প্রান্তজীবি। বৃহত্তর সমাজে তাদের স্থান নেই বলেলেই চলে। তাদের জন্ম মৃত্যু এমনকি আসল নামও আজ সংগ্রহ করা কঠিন।তাদের পরিবারের লোকেরাও সে তথ্য ঠিকঠাক দিতে পারেন নি।প্রচলিত নামেই তারা আজও এলাকার কারও কারও মনে ধুসর স্মৃতি হয়ে রয়েছেন। স্মৃতির চাদর সরালেই অবয়বটা স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে। আমার ছোটবেলায় দেখা মনের মণিকোঠায় ঠাঁই করে নেওয়া ওইসব চরিত্রের সঙ্গে আপনিও মিল খুঁজে পেতে পারেন আপনার দেখা কোন মানুষের মধ্যে )
মদন মরোর পোশাকি নাম ছিল মদনমোহন দে । ময়রা সম্প্রদায়ভুক্ত ছিলেন বলেই স্থানীয় মানুষজন সম্ভবত তাকে মদন মরো বলতেন। এমন কি এখনো তার বিষয়ে কোন প্রসঙ্গ উঠলে তাকে ওই নামেই অভিহিত করতে শুনেছি স্থানীয় বাসিন্দাদের। তার বাড়ি ছিল ময়ূরেশ্বরের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে। কাপড় , নটকোন , কয়লার আড়ত , মিষ্টির দোকান সহ নানারকম পারিবারিক ব্যবসা ছিল তাদের।
আমার দাদুর বন্ধু স্থানীয় ছিলেন মানুষটি । সেই সুবাদে মাঝে মধ্যে দাদুর সঙ্গে তাদের বাড়ি যাতায়াত ছিল আমার। তিনিও আসতেন আমাদের বাড়ি।কিন্তু মদনদাদুর স্মৃতি আমার খুব আবছা। কারণ আমি তখন খুবই ছোট।কিন্তু তার মৃত্যুর দিনটি আজও আমার মনে আছে। শুধু আমারই নয় , এলাকার কৃষিজীবি মানুষ মাত্রেরই মনে রয়েছে তাকে। কারণ কৃষকের স্বার্থেই মর্মান্তিক ভাবে প্রাণ দিতে হয়েছিল তাকে। তার সেই মর্মান্তিক মৃত্যুর অনেক প্রত্যক্ষদর্শী আজও জীবিত রয়েছেন।মর্মান্তিক সেই দিনটা আজও তাদের চোখের সামনে ভাসে।
বিভিন্ন রকম ব্যবসা থাকলেও মদনদাদুরা আদতে কিন্তু ছিলেন কৃষিজীবি। ১৯৭০ সালের কথা। সময়টা ছিল ভাদ্র মাস। সে সময় স্থানীয় চাষীরা প্রতি বছর ওই সময় স্থানীয় গোয়ালশাহী কাঁদরের মুখে বাঁশ আর মাটির বাঁধ দিয়ে জল ধরে রেখে সেচের কাজে লাগাতেন।সেই মতো অন্যান্যদের সঙ্গে মদনদাদুও সেবারে গিয়েছিলেন বাঁধ দিতে। বার বার মাটি দেওয়া স্বত্ত্বেও একটি গোঙাল ( মাটির ভিতরের গর্ত ) কিছুতেই বন্ধ করা যাচ্ছিল না। মদনদাদু সেই গোঙালের মুখে লাথি মেরে মেরে বন্ধ করার চেষ্টা করছিলেন। হঠাৎ ধ্বস নেমে তলিয়ে যান তিনি। আটকে যান বাঁধে পোঁতা বাঁশের খাঁচায়। কিছুক্ষণ পর উদ্ধার হয় তার মৃতদেহ।দাদুর সঙ্গে সেদিন গিয়েছিলাম তাদের ডাঙ্গাপাড়ার বাড়িতে। আবছা মনে আছে উঠোনে সাদা ধুতিতে ঢাকা মদনদাদুর মুখ।
ওই ঘটনার পরই গোয়ালশাহীতে পাকা কপাট বাঁধ নির্মাণের দাবি ওঠে।জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে প্রস্তাব যায় রাজ্যস্তরে। দাবি খতিয়ে দেখতে আসেন খোদ রাজ্যের মন্ত্রী উপেন কিস্কু।তিনি মর্মান্তিক ওই ঘটনার কথা শোনার পর মদনদাদুর নামে পাকা কপাট বাঁধ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। সেই প্রতিশ্রুতি মোতাবেক কপাট বাঁধ নির্মিতও হয়। কিন্তু তৎকালীণ শাসকদলের নেতাদের সদিচ্ছার অভাবে মদনদাদুর নামে বাঁধের নামকরণ হওয়া দুরের কথা , বাঁধের গায়ে তার নামের একটি স্মৃতিফলকেরও জায়গা হয় নি।
বছর খানেকের মাথায় অবশ্য সেই কপাট বাঁধও বন্যায় ভেঙে যায় । তা আজও পুনঃনির্মাণ হয়নি । মর্মান্তিক ওই ঘটনার পর কৃষিজীবিরাও আর মাটির বাঁধ দেওয়ার ঝুঁকি নেন নি। এখন অবশ্য স্যালো-সাবমার্শিবলের দৌলতে সেই সেচ সংকট আর নেই। কিন্তু মানুষ সেই দিনের কথা আজও ভোলেন নি।কেবল শাসকদলের দলের কাছে তিনি অবহেলিতই থেকে গিয়েছেন। সেদিনও কেউ তার কথা ভাবেন নি , ভাবেন নি বর্তমান শাসকদলের কর্তারাও। হয়তো শাসক দলের ছত্রছায়ায় থাকলে তাকে শহীদ আখ্যা দিয়ে আস্ত ভবন তৈরি হয়ে যেত। কিন্তু সেই বাম আমল থেকে একের পর এক নির্মাণ কাজ হচ্ছে এলাকায় , তার একটা কোনেও ঠাঁই হয় নি মদনদাদুর। কিন্তু এখনও এলাকার মানুষের মুখে মুখে ফেরে তার নাম।
পরনে আধ ময়লা ধুতি আর রঙ চটা হাফশার্ট , এই ছিল তার ড্রেসকোড। পরতে পড়তে ছিল দারিদ্রের ছাপ। দারিদ্র ক্লিষ্ট ছোটখাটো চেহেরার মানুষটি এলাকায় অশ্বিনী মাস্টার হিসাবেই পরিচিত ছিলেন। নাম ছিল অশ্বিনী দত্ত। ময়ূরেশ্বরের তিলডাঙ্গা গ্রামে ছিল তার বাড়ি। টিউশানি পড়ানোই ছিল তার প্রধান জীবিকা।কার্যত জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত টিউশানিই পড়িয়ে গিয়েছেন।
তার কাছেই আমার বর্ণপরিচয় , ধারাপাত শেখা । শুধু আমারই কেন , এলাকায় এমন বহু পরিবার আছে যেখানে তিনটি প্রজন্মের প্রাথমিক পাঠটুকু তিনিই দিয়েছেন। মূলত প্রাইমারি স্তরের ছেলেমেয়েদেরই পড়াতেন। নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা খুব একটা ছিল না। কিন্তু বাচ্চাদের পড়াতে তার জুড়ি মেলা ছিল ভার। তার হাতে প্রাথমিক পাঠ নেওয়া বহু ছেলে মেয়ে আজ উচ্চ পদে অধিষ্ঠিত।
পড়ানোর ক্ষেত্রে ছিল তার অসীম ধৈর্য্য। ঘরে নিত্য অভাব তবু পড়ানোর সময় তার ছায়া পড়ত না। মনে পড়ে অনেক সময় তার ঘাড়ে চেপেও বসেছি। মোলায়েম করে বলেছেন , বাবু এবার নামো , পড়ে নাও। তারপর ছুটির সময় কাঁধে করে নিয়ে গিয়ে মিলে তোমার দাদুর কাছে পৌঁচ্ছে দেব।দিয়েছেনও অনেক দিন।
একেই তো বেতন ছিল যৎসামান্য , তাও নিয়মিত মিলত না। তাই একসময় পেটের দায়ে টিউশানির পাশাপাশি রাত জেগে বাড়িতে কাগজের ঠোঙ্গা তৈরি করতেন। টিউশানি পড়াতে আসার সময় তা হাতে করে নিয়ে আসতেন। দোকানে দোকানে পৌঁছে দিতেন , আবার নতুন প্যাকেট তৈরির জন্য খবরের কাগজ , আঁটা নিয়ে ফিরতেন।
এত অভাব তবু বেতনের জন্য জুলুমবাজি করতে পারতেন না। অন্তত আমি দেখি নি। বকেয়া বেতন চাইতেন অত্যন্ত কুণ্ঠার সঙ্গে। সেসময় ৬০ টাকা বেতনের স্কুল মাস্টার আমার বাবারও হয়তো নিয়মিত বেতন দেওয়ার সামর্থ্য থাকত না। নিজে অভাবের সঙ্গে লড়াই করতেন তাই বোধহয় অন্যের লড়াইটা উপলব্ধি করতেন মাস্টারমশাই। বিনীতভাবে বলতে শুনেছি , গত মাসের বেতনটা পেলে ভালো হত , রেশনটা তোলা হয় নি। কাল আর দেবে না। সবদিন বাবার হাতেও টাকা থাকত না । মা আড়াল থেকে শুনে মাঝে মধ্যে বের করে দিতেন তার গোপন সঞ্চয়।আজ মাস্টারমশাই নেই।কিন্তু তার কথা খুব মনে পড়ে।
খুব কাছে থেকে দেখা আদিবাসী সমাজের এক তরুণীর মর্মান্তিক পরিণতির ঘটনা । একসময় ঘটনাটি নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে তোলপাড় হয়েছিল। কিন্তু সংবাদ মাধ্যমের নজর এড়িয়ে গিয়েছিল অনেক ঘটনা।সেই ঘটনাই তুলে ধরা হয়েছে এই কাহিনীতে। আদিবাসী সমাজের ভাষা আলাদা , কিছু কিছু ক্ষেত্রে হয়তো ভাবের প্রকাশও আলাদা। কিন্তু দুঃখ , জ্বালা , যন্ত্রণার অভিব্যক্তি মনে হয় মানুষ মাত্রেরই এক।সেই সব জ্বালা যন্ত্রনার অভিব্যক্তি বৃহত্তর সমাজের উপযোগী ভাষা এবং ভাবের প্রকাশ ভঙ্গিতে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি মাত্র। ত্রুটি -বিচ্যুতি থাকাটাই স্বাভাবিক।তাই সবিনয়ে আগাম মার্জনা চেয়ে নিচ্ছি। একটাই প্রার্থনা , ভালো লাগলে বলুন , বলুন খারাপ লাগলেও।ধন্যবাদ।
মদন মরোর কথা
( ২৩ )
মদন মরোর পোশাকি নাম ছিল মদনমোহন দে । ময়রা সম্প্রদায়ভুক্ত ছিলেন বলেই স্থানীয় মানুষজন সম্ভবত তাকে মদন মরো বলতেন। এমন কি এখনো তার বিষয়ে কোন প্রসঙ্গ উঠলে তাকে ওই নামেই অভিহিত করতে শুনেছি স্থানীয় বাসিন্দাদের। তার বাড়ি ছিল ময়ূরেশ্বরের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে। কাপড় , নটকোন , কয়লার আড়ত , মিষ্টির দোকান সহ নানারকম পারিবারিক ব্যবসা ছিল তাদের।
আমার দাদুর বন্ধু স্থানীয় ছিলেন মানুষটি । সেই সুবাদে মাঝে মধ্যে দাদুর সঙ্গে তাদের বাড়ি যাতায়াত ছিল আমার। তিনিও আসতেন আমাদের বাড়ি।কিন্তু মদনদাদুর স্মৃতি আমার খুব আবছা। কারণ আমি তখন খুবই ছোট।কিন্তু তার মৃত্যুর দিনটি আজও আমার মনে আছে। শুধু আমারই নয় , এলাকার কৃষিজীবি মানুষ মাত্রেরই মনে রয়েছে তাকে। কারণ কৃষকের স্বার্থেই মর্মান্তিক ভাবে প্রাণ দিতে হয়েছিল তাকে। তার সেই মর্মান্তিক মৃত্যুর অনেক প্রত্যক্ষদর্শী আজও জীবিত রয়েছেন।মর্মান্তিক সেই দিনটা আজও তাদের চোখের সামনে ভাসে।
বিভিন্ন রকম ব্যবসা থাকলেও মদনদাদুরা আদতে কিন্তু ছিলেন কৃষিজীবি। ১৯৭০ সালের কথা। সময়টা ছিল ভাদ্র মাস। সে সময় স্থানীয় চাষীরা প্রতি বছর ওই সময় স্থানীয় গোয়ালশাহী কাঁদরের মুখে বাঁশ আর মাটির বাঁধ দিয়ে জল ধরে রেখে সেচের কাজে লাগাতেন।সেই মতো অন্যান্যদের সঙ্গে মদনদাদুও সেবারে গিয়েছিলেন বাঁধ দিতে। বার বার মাটি দেওয়া স্বত্ত্বেও একটি গোঙাল ( মাটির ভিতরের গর্ত ) কিছুতেই বন্ধ করা যাচ্ছিল না। মদনদাদু সেই গোঙালের মুখে লাথি মেরে মেরে বন্ধ করার চেষ্টা করছিলেন। হঠাৎ ধ্বস নেমে তলিয়ে যান তিনি। আটকে যান বাঁধে পোঁতা বাঁশের খাঁচায়। কিছুক্ষণ পর উদ্ধার হয় তার মৃতদেহ।দাদুর সঙ্গে সেদিন গিয়েছিলাম তাদের ডাঙ্গাপাড়ার বাড়িতে। আবছা মনে আছে উঠোনে সাদা ধুতিতে ঢাকা মদনদাদুর মুখ।
ওই ঘটনার পরই গোয়ালশাহীতে পাকা কপাট বাঁধ নির্মাণের দাবি ওঠে।জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে প্রস্তাব যায় রাজ্যস্তরে। দাবি খতিয়ে দেখতে আসেন খোদ রাজ্যের মন্ত্রী উপেন কিস্কু।তিনি মর্মান্তিক ওই ঘটনার কথা শোনার পর মদনদাদুর নামে পাকা কপাট বাঁধ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। সেই প্রতিশ্রুতি মোতাবেক কপাট বাঁধ নির্মিতও হয়। কিন্তু তৎকালীণ শাসকদলের নেতাদের সদিচ্ছার অভাবে মদনদাদুর নামে বাঁধের নামকরণ হওয়া দুরের কথা , বাঁধের গায়ে তার নামের একটি স্মৃতিফলকেরও জায়গা হয় নি।
বছর খানেকের মাথায় অবশ্য সেই কপাট বাঁধও বন্যায় ভেঙে যায় । তা আজও পুনঃনির্মাণ হয়নি । মর্মান্তিক ওই ঘটনার পর কৃষিজীবিরাও আর মাটির বাঁধ দেওয়ার ঝুঁকি নেন নি। এখন অবশ্য স্যালো-সাবমার্শিবলের দৌলতে সেই সেচ সংকট আর নেই। কিন্তু মানুষ সেই দিনের কথা আজও ভোলেন নি।কেবল শাসকদলের দলের কাছে তিনি অবহেলিতই থেকে গিয়েছেন। সেদিনও কেউ তার কথা ভাবেন নি , ভাবেন নি বর্তমান শাসকদলের কর্তারাও। হয়তো শাসক দলের ছত্রছায়ায় থাকলে তাকে শহীদ আখ্যা দিয়ে আস্ত ভবন তৈরি হয়ে যেত। কিন্তু সেই বাম আমল থেকে একের পর এক নির্মাণ কাজ হচ্ছে এলাকায় , তার একটা কোনেও ঠাঁই হয় নি মদনদাদুর। কিন্তু এখনও এলাকার মানুষের মুখে মুখে ফেরে তার নাম।
-----০-----
অশ্বিনী মাস্টারের কথা
( ২৪ )
পরনে আধ ময়লা ধুতি আর রঙ চটা হাফশার্ট , এই ছিল তার ড্রেসকোড। পরতে পড়তে ছিল দারিদ্রের ছাপ। দারিদ্র ক্লিষ্ট ছোটখাটো চেহেরার মানুষটি এলাকায় অশ্বিনী মাস্টার হিসাবেই পরিচিত ছিলেন। নাম ছিল অশ্বিনী দত্ত। ময়ূরেশ্বরের তিলডাঙ্গা গ্রামে ছিল তার বাড়ি। টিউশানি পড়ানোই ছিল তার প্রধান জীবিকা।কার্যত জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত টিউশানিই পড়িয়ে গিয়েছেন।
তার কাছেই আমার বর্ণপরিচয় , ধারাপাত শেখা । শুধু আমারই কেন , এলাকায় এমন বহু পরিবার আছে যেখানে তিনটি প্রজন্মের প্রাথমিক পাঠটুকু তিনিই দিয়েছেন। মূলত প্রাইমারি স্তরের ছেলেমেয়েদেরই পড়াতেন। নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা খুব একটা ছিল না। কিন্তু বাচ্চাদের পড়াতে তার জুড়ি মেলা ছিল ভার। তার হাতে প্রাথমিক পাঠ নেওয়া বহু ছেলে মেয়ে আজ উচ্চ পদে অধিষ্ঠিত।
পড়ানোর ক্ষেত্রে ছিল তার অসীম ধৈর্য্য। ঘরে নিত্য অভাব তবু পড়ানোর সময় তার ছায়া পড়ত না। মনে পড়ে অনেক সময় তার ঘাড়ে চেপেও বসেছি। মোলায়েম করে বলেছেন , বাবু এবার নামো , পড়ে নাও। তারপর ছুটির সময় কাঁধে করে নিয়ে গিয়ে মিলে তোমার দাদুর কাছে পৌঁচ্ছে দেব।দিয়েছেনও অনেক দিন।
একেই তো বেতন ছিল যৎসামান্য , তাও নিয়মিত মিলত না। তাই একসময় পেটের দায়ে টিউশানির পাশাপাশি রাত জেগে বাড়িতে কাগজের ঠোঙ্গা তৈরি করতেন। টিউশানি পড়াতে আসার সময় তা হাতে করে নিয়ে আসতেন। দোকানে দোকানে পৌঁছে দিতেন , আবার নতুন প্যাকেট তৈরির জন্য খবরের কাগজ , আঁটা নিয়ে ফিরতেন।
এত অভাব তবু বেতনের জন্য জুলুমবাজি করতে পারতেন না। অন্তত আমি দেখি নি। বকেয়া বেতন চাইতেন অত্যন্ত কুণ্ঠার সঙ্গে। সেসময় ৬০ টাকা বেতনের স্কুল মাস্টার আমার বাবারও হয়তো নিয়মিত বেতন দেওয়ার সামর্থ্য থাকত না। নিজে অভাবের সঙ্গে লড়াই করতেন তাই বোধহয় অন্যের লড়াইটা উপলব্ধি করতেন মাস্টারমশাই। বিনীতভাবে বলতে শুনেছি , গত মাসের বেতনটা পেলে ভালো হত , রেশনটা তোলা হয় নি। কাল আর দেবে না। সবদিন বাবার হাতেও টাকা থাকত না । মা আড়াল থেকে শুনে মাঝে মধ্যে বের করে দিতেন তার গোপন সঞ্চয়।আজ মাস্টারমশাই নেই।কিন্তু তার কথা খুব মনে পড়ে।
( চলবে )
নজর রাখুন / সঙ্গে থাকুন
আগামী রবিবার ১৯ নভেম্বর থেকে প্রতিদিন সকাল ১০ টার মধ্যে প্রকাশিত হবে
ধারাবাহিক উপন্যাস
সালিশির রায়
সালিশি সভার রায়ে সর্বস্ব হারানো এক আদিবাসী তরুণীর ঘুরে দাঁড়ানোর , অন্যকে দাঁড় করানোর মর্মস্পর্শী কাহিনী অবলম্বনে ধারাবাহিক উপন্যাস --
খুব কাছে থেকে দেখা আদিবাসী সমাজের এক তরুণীর মর্মান্তিক পরিণতির ঘটনা । একসময় ঘটনাটি নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে তোলপাড় হয়েছিল। কিন্তু সংবাদ মাধ্যমের নজর এড়িয়ে গিয়েছিল অনেক ঘটনা।সেই ঘটনাই তুলে ধরা হয়েছে এই কাহিনীতে। আদিবাসী সমাজের ভাষা আলাদা , কিছু কিছু ক্ষেত্রে হয়তো ভাবের প্রকাশও আলাদা। কিন্তু দুঃখ , জ্বালা , যন্ত্রণার অভিব্যক্তি মনে হয় মানুষ মাত্রেরই এক।সেই সব জ্বালা যন্ত্রনার অভিব্যক্তি বৃহত্তর সমাজের উপযোগী ভাষা এবং ভাবের প্রকাশ ভঙ্গিতে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি মাত্র। ত্রুটি -বিচ্যুতি থাকাটাই স্বাভাবিক।তাই সবিনয়ে আগাম মার্জনা চেয়ে নিচ্ছি। একটাই প্রার্থনা , ভালো লাগলে বলুন , বলুন খারাপ লাগলেও।ধন্যবাদ।



হারিয়ে যাওয়া মানুষজনকে অমর করে রাখছেন ॥ খুব ভালো লাগছে ॥
ReplyDeleteঅনেক অনেক ধন্যবাদ । সঙ্গে থাকুন ।
Deleteমনের মণিকোঠায় মাস্টার মশাই এর কথা আমার স্মৃতিকে উজ্জ্বল করে দিল। এমনই এক শিক্ষকের সাক্ষাৎ আমি পেয়েছিলাম। তাই আজ ধন্য আমি। সশ্রদ্ধ বিনম্র প্রণাম জানাই আপনার আমার সেই সব শিক্ষককুলকে। ধন্যবাদ আপনাকেও।
ReplyDeleteধন্যবাদ।
Delete